Thursday, 31 January 2019

তিন রুশ নারীর ইসলাম গ্রহণের গল্প


এক সময়ের পৃথিবী শাসন করত রাশিয়া। সে সময় রাশিয়ায় কমিউনিজমের আদর্শেই মানুষ মানতো। স্রষ্টার  ধারণা বলতে কিছু ছিল না। তারপরেও সেখানে দ্রুত ধর্মীয় জাগরণ আমরা দেখেছি।
ধীরে ধীরে  রাশিয়ায় মানুষ ইসলামের মাঝে জীবনের মানে, মনের শান্তি ও সঠিক পথ খুঁজে পেয়েছেন।
রাশিয়ার সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ খ্রিস্ট ধর্মে বিশ্বাসী। রাশিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মূলত অভিবাসীদের মাধ্যমে ইসলামের প্রসার ঘটেছে।
রাশিয়ার অনেক আদিবাসীরা শতাব্দীর পর শতাব্দীকাল ইসলাম ধর্মের প্রতি গভীর আনুগত্য প্রকাশ করে আসছে এবং খ্রিস্টানদের সঙ্গে একত্রে বসবাস করছে।
সোভিয়েত আমলে কোনো ধর্মকে বরদাশত করা হতো না। কিন্তু কমিউনিজমের পতনের পর অর্থডক্স খ্রিস্টান এবং ইসলামের দ্রুত প্রসার ঘটেছে। রাশিয়ায় মোট ১৪ কোটি ৬০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে মুসলমানের সংখ্যা ২ কোটিরও বেশি।
ককেশাস স্টাডিজ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা কেন্দ্রের সিনিয়র সহকর্মী নিকোলাই সিলাভে বলেছেন, ‘রাশিয়ায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়েছেন এবং হচ্ছে।
সম্প্রতি ‘রাশিয়া বিয়ন্ড দ্য হেডলাইন’ নামে ইংরেজি সংবাদ মাধ্যম ইসলামে ধর্মে দীক্ষিত তিন নারীর সাক্ষাৎকার নেয়।  ভ্যালেরিয়া (২২)। সাত বছর আগে ২০১১ সালে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হন।
ভ্যালেরিয়া বলেন: আমি খ্রিস্টান পরিবারে বড় হয়েছি। ইসলাম সম্পর্কে জানার পর আমি মুসলিম হওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। এতে আমার পরিবার মর্মাহত হন। প্রথমে তারা এ সম্পর্কে বিরূপ চিন্তা-ভাবনা করেছিলেন। তারা মনে করতেন আমি অদূর ভবিষ্যতে যানবাহন বোমার আঘাতে উড়িয়ে দেব।’
আল্লাহর মেহেরবানিতে এক সময় আমার পরিবারকে বুঝাতে সক্ষম হয় যে, ইসলাম ধর্ম অতি শান্তিময়, ভ্রাতৃত্বর্পূ ণ এবং একমাত্র সঠিক ও মুক্তির পথ। সাথে পরিবারের কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ, তারা আমার পছন্দ ও সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছেন।
বিশেষ করে মায়ের কাছে কৃতজ্ঞ যিনি অপেক্ষাকৃত স্বল্প সময়ের মধ্যে আমার সিদ্ধান্তকে সাদরে গ্রহণ করেন এবং আমার পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কাছ থেকে মা আমাকে সুরক্ষিত রেখেছেন। তার জন্য ইহকাল-পরকালের কল্যাণ কামনা করছি।
ভ্যালেরিয়া আরও বলেন, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর ইসলাম নিয়ে গভীর অধ্যয়ন শুরু করি । সাথে নামায-কালাম আদায় করি। দুই মাস পর থেকে হিজাব পরা শুরু করি। সে থেকে ইসলাম সম্পর্কে গবেষণা  ও সাথে সাথে ইসলামের বিধিনিষেধ পালন করার যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে করছি।
ওলেয়ানা (৩০) নয় বছর আগে ২০০৯ সালে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হন।
ওলেয়ানা বলেন: ইসলামের প্রতি ছোটবেলা থেকেই আমার আগ্রহ ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ের ইসলাম ধর্মের প্রাথমিক ধারণা পাই এবং আরবি শিখি। সেখানে আমার অনেক মুসলমান বন্ধু ছিল।
বর্তমানে সমাজে মুসলিমদের নিয়ে স্বাভাবিকভাবে যা বিবেচনা করা হয়ে থাকে তাদের সবার আচরণ ছিল তা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এ কারণেই আমি ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। আমার বাবা-মা ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা আমার আগ্রহ বুঝতে পেরেছিল যেমনটি তারা আশা করেছিল।’
‘আমি স্কার্ফ পরি না তবে নামাজের সময় নিজেকে পরিপূর্ণভাবে ঢেকে নেই। প্রথমে রোজা রাখাটাও আমার জন্য কঠিন ছিল কিন্তু আমি গত তিন বছরে এতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। এছাড়াও ইসলাম নিয়ে গৎবাঁধা কিছু বিষয় নিয়ে লড়াই করতে হচ্ছে।
অনেকে বিশ্বাস করেন, ইসলাম একটি নিষ্ঠুর ধর্ম। আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে এমন মতের সঙ্গে ভিন্নমত পোষন করি। আমি মনে করি সকল ঐশ্বরিক শিক্ষা সুমহান কল্যাণ আর ভালবাসা দিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ইসলাম ধর্ম।
ওলেয়ানা  আরও বলেন, অনেকে মনে করেন, ইসলামে কথিত গৎবাঁধা অনেক বিষয় আছে, উদাহরণস্বরূপ, মুসলমান কর্তৃক কাফের হত্যা, প্রাণি জবাই, স্ত্রীদের মারধর ও অবিশ্বাসীদের গ্রহণ না করা ইত্যাদি। এই মনোভাবের কারণ হচ্ছে তাদের অজ্ঞতা।
আপনি কিছু বুঝতে না পারলে কিংবা কোনো বিষয়ে ভয় পেলে আপনার উচিত হবে সেই ভয় বাস্তবসম্মত কিনা তা খুঁজে বের করা। আমি মনে করি ধর্মের সঠিক অনুশীলনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সচেতনতা বৃদ্ধিই পারে তাদের এই ভয় ও অকল্প অসার ধারণা দূর করতে।
জয়নাব ওরফে এলেনা (৫৫)। ২০০৬ সালে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হন।
জয়নাব বলেন:  ৯০ এর দশকের শেষের দিক আমার স্বামীকে নিয়ে পর্যটক হিসেবে আমরা মিসর সফর করি। কোনো মুসলিম দেশে এটা ছিল আমার প্রথম সফর। সেখানে আমি সম্পূর্ণ একটি ভিন্ন মানসিকতার মানুষদের দেখেছি।
এই সংস্কৃতির মধ্যে নিমগ্ন থাকার ফলে আমি আরব বিশ্বের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠি এবং আমি কুরআন নিয়ে অধ্যয়ন শুরু করি।’
জয়নাব ওরফে এলেনা বলেন, ৪০ বছর বয়সে আমি আমার স্বামীকে বললাম যে, আমি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে চাই। আমার স্বামী এবং সন্তানরা আমার সিদ্ধান্তে শান্ত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। কিন্তু আমার মা বিষয়টি অতটা সহজভাবে মেনে নেননি।
মূল সমস্যা ছিল মাথায় হিজাব পরা নিয়ে। যদিও পরিস্থিতি এখন মীমাংসা হয়ে গেছে। এখন আমার মা আমার জন্য হালাল খাদ্য ক্রয় করেন। চার বছরের মধ্যে আমার জ্যেষ্ঠ কন্যাও ইসলাম গ্রহণ করেছে, আলহামদুলিল্লাহ।
‘ইসলাম গ্রহণ করার অল্পদিন পরেই আমি বুঝতে পারলাম আমার মধ্যে অনেক পরিবর্তন হয়েছে এবং তখন আমি আমার এলেনা নাম পরিবর্তন করে একটি মুসলিম নাম গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেই। পরিবর্তিত  ‘জয়নাব’ নাম পছন্দ করি।
জয়নাব বলেন, ‘আমি ইংরেজি এবং জার্মান কারিগরি অনুবাদক হিসেবে কাজ করি। যখন আমি হিজাব পরিধান করি আমার সহকর্মীরা আমার সঙ্গে অসঙ্গত আচরণ করা শুরু করেন। একটা তুচ্ছ ব্যাপার নিয়ে এমন আচরণে আমি অত্যন্ত কষ্ট পাই।
সে সময় খুবই মর্মাহত ছিলাম কিন্তু দুই মাস পরে আমি প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য একটি ফার্ম থেকে একটি চাকরির প্রস্তাব পাই। ওই একই কাজে আমাকে আগের চেয়ে দ্বিগুন বেতন অফার করেন তারা। তাদের বললাম যে, কর্মক্ষেত্রে আমি মাথায় হিজাব পরতে পারব কিনা। উত্তরে তারা জানায়, এটা কোনো সমস্যা না। তাদের প্রয়োজন দক্ষতা আর কাজ।’
জয়নাব আরও বলেন, উদাহরণ স্থাপনের মাধ্যমে আমি ইসলাম নিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে চাই। জনগণ ইসলাম সম্পর্কে দীর্ঘ বক্তৃতা শুনতে চায় না। তারা কেবল আপনার কাজকেই বড় করে দেখে। আমি বলব, মুসলিমরা প্রকৃত অর্থেই অনেক ভালো।
-এটি

Wednesday, 30 January 2019

সিগারেট তৈরির একটি মূল উপাদান ইঁদুরের বিষ্ঠা!


সিগারেটের পেছনে মাসে কারো কারো হাজার হাজার টাকা ব্যয় হয়। জানেন কি এই সিগারেট কি থেকে তৈরি হয়? হ্যাঁ, অবশ্যই তামাক পাতা সুন্দর করে কেটে পরিশোধন করার পর তার সঙ্গে আনুষঙ্গিক কয়েকটি উপাদান মিশিয়ে কাগজে মোড়ানো সিলিন্ডারের ভেতর পুরে সিগারেট তৈরি করা হয়।
তবে সম্প্রতি একটি গবেষণা থেকে জানা গেছে, সিগারেটের মুল উপাদান গুলির একটি ইঁদুরের বিষ্ঠা। অবাক হওয়ার কিছুই নেই। কারণ সম্প্রতি অপর একটি গবেষণায় জানানো হয়েছে, পৃথিবী বিখ্যাত আইভরি কফি তৈরি নাকি তৈরি হয় হাতির বিষ্ঠা থেকে। যেমনটি ভারতে কফি তৈরি হয় বিড়ালের মল থেকে!
যাই হোক এসব তাও মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু পরবর্তী যে তথ্যটি একেবারেই ঘৃন্যকর, সেটি হল সিগারেটের ফিল্টারে ব্যবহার করা হয় শূকরের রক্ত। নেদারল্যান্ডস এর এক গবেষণায় দেখা গেছে- ১৮৫টি সিগারেট উৎপাদনকারী কারখানায় ব্যবহার করা হয় শূকরের রক্ত। কারণ সিগারেটের ফিল্টারে রক্তের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিমোগ্লোবিন ব্যবহার করা হয়।
নেদারল্যান্ডসের ওই গবেষণায় আরও দেখা গেছে, শূকরের রক্ত থেকে হিমোগ্লোবিন নিয়ে তা সিগারেটের ফিল্টারে ব্যবহার করা হয়। গ্রিসের একটি সিগারেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান শূকরের হিমোগ্লোবিন ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকারও করেছে। তারও আগে জানা গিয়েছিল, সস্তা সিগারেটের মধ্যে অ্যাজবেস্টস এবং মৃত মাছিও থাকে।

গরুদের জন্য ১ হাজার আশ্রম; প্রতি গরু পাবে ১৯.৫২ রুপি ভাতা!



ভারতে গো রক্ষকদের দাপট চলছেই। যে দেশে কোটি কোটি মানুষ চরম দারিদ্রতায় ভূগছে, সেই দেশে এবার গরুদের জন্য নির্মাণ করা হবে ১ হাজার গো-আশ্রম! সম্প্রতি এমন ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্য সরকারের মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথ। এসব আশ্রমে প্রায় ১ লাখ গরুর থাকার জায়গা হবে বলে জানানো হয়েছে। নির্মাণকাজ শেষ হবে আগামী ৬মাসের মধ্যেই।
বার্তা সংস্থা এএনআইকে কমলনাথের বিশেষ সহযোগী ভুপেন্দ্র গুপ্ত বলেন, বেওয়ারিশ গরুদের আশ্রয় দিতে রাজ্য সরকার ৪৫০ কোটি রুপির প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এছাড়া এসব প্রকল্প পরবর্তীতে ধীরে ধীরে আরো বাড়ানো হবে বলে জানানো হয়। দেশটির মধ্যপ্রদেশে নাকি প্রায় ৬ লাখের বেশি বেওয়ারিশ গরু রয়েছে। এসব গরুদের পর্যায়ক্রমে সরকারি আশ্রমের অধীনে নিয়ে আসা হবে।
ভুপেন্দ্র আরও জানিয়েছেন, গরুদের খাওয়ার খরচ বাবদ প্রতিটি গরুকে ১৯.৫২ রুপি করে ভাতা বরাদ্দ করতে একটি প্রস্তাবও পেশ করা হয়েছে। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৩ টাকার মতো। গরুদের আশ্রম তৈরির এমন উদ্যোগ এই প্রথম নেওয়া হয়েছে।  ভারতের আর কোথাও এমন গো-আশ্রম নেই। সরকারি অর্থায়নে নির্মিতব্য ১ হাজার আশ্রমের পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৬১৪টি আশ্রম নির্মাণের কাজ চলছে।
জানা গেছে, এসব আশ্রমের ধারণক্ষমতা বাড়িয়ে ৬০হাজার করা হবে এবং প্রথম দফায় ১ লাখ ৬০ হাজার গরুর আশ্রয় হবে। ভারতে অনেক হিন্দুধর্মাবলম্বী গরুকে 'দেবতা' হিসেবে ভক্তি করে। অনেকেই গো-মূত্রকে সর্বরোগের ওষুধ হিসেবেও পান করে থাকে। গত কয়েক বছরে গো-হত্যার অভিযোগে কথিত গো-রক্ষকদের হাতে পুলিশসহ বেশ কিছু সংখ্যক মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।